জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ের জন্য মেঘনাঘাট-হরিপুর লাইনে একটি গাছকে সন্দেহ করছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ-পিজিসিবি। বুধবার এ বিষয়টি পিজিসিবির কর্মকর্তারা বিদ্যুৎ বিভাগকে জানিয়েছেন। বলেছেন, ওই গ্রিড লাইনের পাশের একটি গাছ বাতাসের ধাক্কায় তারের সঙ্গে স্পর্শ লাগতে পারে। এ কারণে পুরো গ্রিড সিস্টেমে বিপর্যয় হতে পারে।
বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ বুধবার যুগান্তরকে বলেছেন, গাছের কারণে গ্রিডে সমস্যা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে সেটি আরও বিস্তারিত তদন্তের দরকার আছে। সেটি সংশ্লিষ্টরা দেখছেন।
জানা গেছে, ওই গাছের ভিডিও ফুটেজও পিজিসিবি, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে গ্রিডে বিপর্যয় ঘটলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেটের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন ক্ষমতার ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ পর্যন্ত দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি পিজিসিবির এক প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে এবং দ্বিতীয়টি বিদ্যুৎ বিভাগের এক অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে।
পিজিসিবির তদন্ত দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে ওই গাছকে সন্দেহ করছে। ওই গ্রিড বিপর্যয়ের দুই ঘণ্টা পর চালু করা হলে কোনো সমস্যা হয়নি। পিজিসিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, গ্রিডে কোনো সমস্যা ছিল না। কারণ দুই ঘণ্টা পর চালু করা হলে গ্রিড স্বাভাবিকভাবে চালু হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গ্রিড বিপর্যয়ের ঘটনা পুরো দেশের জন্য স্পর্শকাতর। সামনে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর ঘটতে না পারে, সে দিকে খেয়াল রেখে কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ ব্যাপারে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে, মঙ্গলবারের ঘটনার পর বুধবার সকাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। বুধবার বেলা ১১টায় লোডশেডিং ছিল ১৯৯ মেগাওয়াট।
আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার কমেছে : গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে আদানি গ্রুপের কেন্দ্র থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। গত সপ্তাহে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দৈনিক ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও এখন পাওয়া যাচ্ছে ৮১২ মেগাওয়াটের মতো। পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, কয়লা সংকটের কারণে আদানি এখন বিদ্যুৎ কম দিচ্ছে। বেজ লোড বা সব সময় এ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাওয়ার কথা বলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এই কেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়।


-6ae37920cde57.jpg)
-6ae37945dce37.jpg)
-6ae37772e1228.jpg)
-6ae3782cacd29.jpg)