বর্তমান সময়ে যক্ষ্মা বা টিবি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। যাদের এইচআইভি, ডায়াবেটিস বা আগে টিবি হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে টিবি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের মধ্যে টিবি হওয়ার প্রবণতা বেশি।

বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২ লাখ শিশু যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলেও রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার অভাবে থেকে যাচ্ছে প্রায় ৪৩ শতাংশ।

১. লিম্ফ নোড টিবি

শরীরের লিম্ফ নোড বা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এই ধরনের টিবির প্রধান লক্ষণ। এতে ঘাড় বা বগলের কাছে ব্যথাহীন ফোলা ভাব দেখা যায়। যেহেতু এতে ব্যথা থাকে না, তাই রোগীরা অনেক সময় এটাকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু অবহেলা করলে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

২. হাড় ও মেরুদণ্ডের টিবি

এতে পিঠে ব্যথা হতে পারে, যা সাধারণ ব্যথা নয়। মেরুদণ্ড বা হাড়ের টিবি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং দীর্ঘমেয়াদী।

উপসর্গ: দীর্ঘদিনের পিঠের ব্যথা (যা সাধারণ মাসল পেইন মনে হতে পারে), জ্বর, ওজন কমে যাওয়া এবং অরুচি। সময়মতো চিকিৎসা না হলে মেরুদণ্ড বেঁকে যেতে পারে বা প্যারালাইসিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। হাড়ের টিবির চিকিৎসা সাধারণ টিবির তুলনায় দীর্ঘ হয় (প্রায় ৯ মাস থেকে ১ বছর)।

৩. মস্তিষ্কের টিবি

এটি বিরল হলেও অত্যন্ত প্রাণঘাতী। একে ‘টিবি মেনিনজাইটিস’ বলা হয় এবং এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক ধরনের টিবির মধ্যে একটি।

এই ধরনের ক্ষেত্রে রোগীর প্রচণ্ড মাথাব্যথা, খিঁচুনি, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া এবং আচরণে অসংলগ্নতা দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি বেশি। শুরুতে সাধারণ ভাইরাল জ্বর মনে হলেও দ্রুত চিকিৎসা না করালে এটি মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

রোগ ধরা পড়তে দেরি

ফুসফুসের টিবি সংক্রামক হলেও, হাড় বা গ্রন্থির টিবি সাধারণত একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়ায় না। তবে এর নির্ণয় পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে জটিল।

কাশি না থাকায় কফ পরীক্ষার সুযোগ থাকে না। উপসর্গগুলো অনেক সময় ক্যানসার বা অটো-ইমিউন রোগের সঙ্গে মিলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান বা বায়োপসি ছাড়া ফুসফুস বহির্ভূত টিবি ধরা পড়ে না।

যেসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি করা যাবে না—

শরীরের কোনও অংশে ব্যথাহীন ফোলা ভাব

বিকেলের দিকে হালকা জ্বর ও রাতে ঘাম হওয়া

অকারণে ওজন কমে যাওয়া

দীর্ঘদিন ধরে হাড় বা জয়েন্টে ব্যথা, যা ওষুধে কমছে না।