ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন হাসতে হাসতেই জানালেন, শুধু নিজেকে নয়, পুরো দলকেই চাপে রেখেছেন সাদমান ইসলাম। বুধবার ঢাকা টেস্টের প্রথমদিন শেষে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা এই ওপেনার আর একটি রান করলেই পূর্ণ হতো সেঞ্চুরি। তখন স্বস্তি নিয়ে আজ ব্যাটিংয়ে নামতে পারতেন তিনি। দিনের শুরু থেকেই অবশ্য চাপ পিছু ছাড়েনি বাংলাদেশের। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও একাদশে রাখা যায়নি আগেরদিন চোট পাওয়া মুশফিকুর রহিমকে। তার জায়গায় সুযোগ পাওয়া তাওহিদ হৃদয় ব্যাটিংয়ের সময় পেশিতে টান পেয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন। এছাড়া আলোকস্বল্পতায় নষ্ট হয়েছে দিনের প্রায় ১৬ ওভার। এত নাটকীয়তা, এত অস্বস্তির পরও দিন শেষে স্বস্তি বাংলাদেশেরই। মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথমদিনে ৭৪ ওভারে তিন উইকেটে ২১৩ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান (৯৯*), তার সঙ্গে ১০* রানে ক্রিজে আছেন লিটন দাস।
বিকাল ৩টা ১৬ মিনিটে আলোকস্বল্পতায় প্রথমবার খেলা বন্ধ হয়। প্রায় ৫০ মিনিট পর খেলা শুরু হলেও বেশিক্ষণ চালানো যায়নি। বিকাল ৪টা ২২ মিনিটে আবারও খেলা বন্ধ করে দেন আম্পায়াররা। দিনের শেষ চার ওভারে ৯৬ থেকে ৯৯ রানে পৌঁছান সাদমান। তার ২১৯ বলের ইনিংসে রয়েছে ১০টি চার। নিজের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে তিনি। টেস্টে অপরাজিত ৯৯ রানে দিন শেষ করা ২০তম ব্যাটার সাদমান। এর আগে গত বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৯ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। আশার কথা হলো, আগের ১৯ জনই পরের দিন তিন অঙ্কে পৌঁছেছিলেন। কাল শুরু থেকেই সতর্ক ব্যাটিং করেছেন সাদমান। অন্যদিকে আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে দ্রুত ফেরেন তানজিদ হাসান। ২৩ বলে সাত রান করে জেডেন সিলসের বলে দ্বিতীয় স্লিপে জাস্টিন গ্রিভসের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। নতুন বলে ক্যারিবীয় পেসাররা সুইং ও বাউন্স আদায় করে নিলেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন সাদমান। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হকের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। মধ্যাহ্নবিরতির আগে জোমেল ওয়ারিকানের বলে মিড অফে ক্যাচ দেন ২৮ রান করা মুমিনুল। এই ইনিংসের পথে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। প্রথম সেশন শেষ হয় ৯৬/২-এ।
বিরতির পর ফিফটি পূর্ণ করেন সাদমান। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে হারায় বাংলাদেশ। ওয়ারিকানের বলে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লু হন ৪২ বলে ১৯ রান করা নাজমুল। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও রোস্টন চেজ রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়। ১১২ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। হঠাৎ চাপে পড়া দলকে সাদমানের সঙ্গে জুটিতে টানেন হৃদয়। শুরুতে সতর্ক থাকলেও ধীরে ধীরে সাবলীল হয়ে ওঠেন তিনি। জাস্টিন গ্রিভসের বলে কাভার দিয়ে বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট খেলেন সাদমান। হৃদয়ও শামার জোসেফের বলে দুটি বাউন্ডারি মারেন। দুজনের ব্যাটে চা-বিরতিতে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১৭৭/৩। এরপর পেশিতে টান লাগে হৃদয়ের। একপর্যায়ে সিঙ্গেল নিতেও সমস্যা হচ্ছিল তার। শেষ পর্যন্ত ৮৪ বলে ৪২ রান করে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে সাদমানের সঙ্গে তার ৮৮ রানের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ। সুস্থ হলে আবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পাবেন হৃদয়।
চোট কাটিয়ে ফেরা লিটন ক্রিজে এসে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে চার মারেন। এরপর ফের আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলার অকাল সমাপ্তি ঘটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন ওয়ারিকান। ৩৩ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। অন্যটি সিলসের। অভিষেক হওয়া বিশপ উইকেট না পেলেও ঘূর্ণিতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের পরীক্ষা নিয়েছেন। তবে প্রথমদিন শেষে চালকের আসনে বাংলাদেশই।
স্কোর কার্ড
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস
রান বল ৪ ৬
সাদমান ব্যাটিং ৯৯ ২১৯ ১০ ০
তানজিদ ক গ্রিভস ব সিলস ৭ ২৩ ০ ০
মুমিনুল ক জোসেফ ব ওয়ারিক্যান ২৮ ৫১ ২ ০
নাজমুল এলবিডব্লু ব ওয়ারিক্যান ১৯ ৪২ ১ ০
তাওহিদ রিটায়ার্ড হার্ট ৪২ ৮৪ ৩ ০
লিটন ব্যাটিং ১০ ২৮ ১ ০
অতিরিক্ত ৮
মোট (৩ উইকেটে, ৭৪ ওভারে) ২১৩
উইকেট পতন : ১/৯, ২/৬৮, ৩/১১০।
বোলিং : জেইডেন সিলস ৮-৩-১৪-১, শামার জোসেফ ১০-১-২৮-০, রোস্টন চেজ ১৩-১-৫৩-০, জাস্টিন গ্রিভস ১০-৪-৩০-০, জশুয়া বিশপ ১৯-২-৫০-০, জোমেল ওয়ারিক্যান ১৪-১-৩৩-২।





